গাজীপুরে সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাসেম নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
গাজীপুর হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের একজনের মৃত্যু
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) বেডে তার মৃত্যু হয়। রাত সাড়ে ৯টায় তার জানাজা নামাজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, এর প্রতিবাদে কফিন মিছিল করার কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে বলেন, ‘গাজীপুরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে শহীদ বীর কাশেমের জানাযা ৯.০০ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে। জানাযার পরে আওয়ামীলীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে কফিন মিছিল হবে শহীদ মিনার থেকেই।

একইসঙ্গে সারাদেশে প্রত্যেক জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নে, গ্রামে শহীদ বীর কাশেমের গায়েবানা জানাযা এবং আওয়ামীলীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে খাটিয়া মিছিল। সবাই নিজেদের নির্ধারিত সময়ে পালন করবে।’
নিহত কাসেমের বাড়ি গাজীপুর জেলার গাছা থানার বোর্ড বাজার দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মৃত জামালের ছেলে। জানা যায়, বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর তিনটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে কাশেম মারা যায়। তার পরিবারকে এরইমধ্যে খবর দেয়া হয়েছে। তারা ঢাকা মেডিকেলে আসছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ ফারুক জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে আহত অবস্থায় কাসেম নামে এক যুবককে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে সন্ধ্যায় আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা জানান, একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ছাত্র প্রতিনিধি আটক রয়েছে বলে খবর দেয়া হয়। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় এক সমন্বয়ক’সহ ছাত্র-জনতার একটি দল সেখানে যায়।
এ সময় মসজিদের মাইকে ডাকাতি হচ্ছে বলে খবর ছড়িয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন হামলা চালায় বলেও অভিযোগ করেন তারা। সে হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।