আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় গাজীপুর জেলার জনসংখ্যা বিষয়ক তথ্য।

গাজীপুর জেলার জনসংখ্যা বিষয়ক তথ্য:-
২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী গাজীপুর জেলার জনসংখ্যা ২১,৪৩,৪১১জন, পুরুষ- ১১,১৮,১৭১ জন. মহিলা- ১০,২৫,২৪০ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব ১১২৪ জন প্রতি বঃ কিঃ মিঃ
আয়তন
১৭৭০.৫৪ বর্গ কিঃ মিঃ
ক. নদ-নদী- ১৭.৫৩ বর্গ কিঃ মিঃ
খ.বনভূমি- ২৭৩.৪২ বর্গ কিঃ মিঃ
টারশিয়ারী যুগে গাজীপুর উত্তর-পূর্ব ভারতের অংশ বিশেষের যে পরিবর্তন সূচিত হয় তার ফলে চ্যুতির আকারে অবনমিত হয়ে রাজমহল গারো ছেদের সৃষ্টি হয়। এর ফলশ্রুতিতে নদ-নদীর গতি পরিবর্তিত হয়। প্লাইষ্টেসিনকালের কার্যকলাপের সময় প্রাচীন অবক্ষেপণ থেকেই মধুপুর ভাওয়ালচত্বর (গাজীপুর জেলা) বা প্লাইষ্টেসিনকালের চত্বরের বিকাশ হয়।
গাজীপুর জেলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বাংশের গড় উচ্চতা সমুদ্র সমতল হতে ৬ মিটার এবং পশ্চিম দিকে কালিয়াকৈর এ অবস্থিত টিলার উচ্চতা ৩০ মিটারের মত। পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে ঢাল বিশিষ্ট এবং পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র প্লাবন ভূমির দিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবনমিত সোপান দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত যা খাড়া কিনার সম্পন্ন।
জেলার উত্তরের বনভূমির মধ্যবর্তী এলাকায় উত্তর-দক্ষিণ বরাবর শিরার ন্যায় একটি উচ্চভূমি বিদ্যমান, যা তুরাগ ও বানার নদীর জল বিভাজিকা হিসেবে কাজ করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বনভূমি এলাকায় গড় উচ্চতা ১৮ মিটার। বনভূমির কিছু কিছু এলাকার উচ্চতা আবার ৫০ মিটারেরও অধিক। সহানীয়ভাবে অধিক উঁচু ভূমিকে বলে ‘পাহাইড়া ’এলাকা।

গাজীপুর সদর, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালিগঞ্জ ও কাপাসিয়া এই ৫টি উপজেলা নিয়ে ঢাকা জেলা থেকে বিভক্ত হয়ে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ গাজীপুর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে মহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনকালে গাজী নামে এক কুস্তিগীর এখানে থাকতো আর তার নাম থেকেই সম্ভবত এই অঞ্চলের নাম হয়েছে গাজীপুর। আবার এই মতের বিরোধিতা করে অনেকে বলেন যে সম্রাট আকবরের সেনাপতি ঈশা খাঁর ছেলে ফজল গাজীর নামে এই জনপদের নামকরণ করা হয়েছে।
